আদালতে এসে ঘুরে গেলেন পলাতক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা!

দুর্নীতির পৃথক দুই মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পলাতক আবজাল হোসেন আদালতে এসে ঘুরে ফিরে চলে গেছেন। এরআগে রবিবার সকাল ১০ টার দিকে আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তিনি জামিনে মুক্তির পৃথক দুই আবেদন করেন।

ওই আবেদন দুটির উপর সকাল ১১ টার দিকে শুনানী হওয়ার কাথা ছিল। কিন্তু বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ অন্যান্য মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আবজালের জামিন আবেদন ফেরত নিয়ে জান তার আইনজীবী শাহিনুল ইসলাম।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, এ আসামিদের বিরুদ্ধে দুই মামলায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং অভিযোগ রয়েছে। আসামিরা আদালতে এসে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়েছিলেন।

পরে সেই আবেদন দুটি ফেরত নিয়ে গেছে। দুদকের পক্ষ থেকে আমরা জামিন আবেদনের বিরোধীতা করার সকল প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। মামলা দুইটির মধ্যে একটিতে আবজাল হোসেন একা আসামি এবং অপর মামলায় তার স্ত্রী রুবিনা খানম যৌথভাবে আসামি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২৭ জুন দুদক উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ কার্যালয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানিলন্ডারিং এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি করেন।

মামলা দুটিতে আবজাল দম্পতির বিরুদ্ধে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৬১ হাজার ৪৯৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে ২৮৪ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকার মানি লন্ডারিং অপরাধের অভিযোগও করা হয়েছে।

আবজালের বিরুদ্ধে করা মামলায় ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে দুই কোটি ২ লাখ ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৮৫ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন বলে মামলায় উলে­খ রয়েছে। আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানম ও আবজালকে যৌথভাবে আসামি করে করা মামলায় ৩১ কোটি ৫১ লাখ ২৩ হাজার ৪৪ টাকার সম্পদের কথা বলা হয়েছে। তিনি দুদকের কাছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে মামলায় উলে­খ করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, আবজালের নামে থাকা সম্পদের চেয়ে তার স্ত্রীর নামে সম্পদের পরিমাণ বেশি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে তিনি স্ত্রীর নামে সম্পদ করেছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।