আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে আরব আমিরাতের বিমান গুলি করে নামাবে তুরস্ক

আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে আরব আমিরাতের বিমান গুলি করে নামাবে তুরস্ক

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুর্কি সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুদ্ধ বিমান গুলি করে নামাতে দ্বিধা করবে না তুরস্ক। শুক্রবার সংবাদমাধ্যম  এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

তুরস্কের একটি সূত্র বলেছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোনও বিমান পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ক্রিট দ্বীপের নিকটবর্তী তুরস্কের জলসীমায় বা ‘ওরুক রেইসে’র কাজের ক্ষেত্রের কাছে পৌঁছলে আমরা গুলি চালাতে দ্বিধা করব না।’ ‘ওরুক রেইস’ হচ্ছে তুরস্কের গবেষণা জাহাজ যা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে জ্বালানী অনুসন্ধানে কাজ করছে।

সূত্র অনুসারে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন একটি ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে যা তাদের জন্য বিপদজনক। তারা আগুন নিয়ে খেলছে। তারা যদি রেডলাইনগুলো লঙ্ঘন করে বা তুরস্কের জলসীমার কাছে পৌঁছে, তবে একটি কঠোর শিক্ষা গ্রহণ করবে।’

প্রসঙ্গত, তুরস্কের বিরুদ্ধে মিত্র গ্রিসের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাত অনেকগুলো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য যাত্রীবাহী বিমান ক্রিট দ্বীপে মোতায়েনের জন্য পাঠিয়েছে এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্ক এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এদিকে, ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। রোববার তুরস্কের ৯৮তম বিজর দিবস উপলক্ষে আঙ্কারায় এক ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন।

বিজয় দিবসের ভাষণে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে উত্তেজনা নিয়ে এরদোগান বলেন, ‘পূর্ব ভূমধ্যসাগরে বিশেষ করে (ভয় দেখানো বা ব্লাকমেইলের করে) তুরস্ক কোনো হুমকিতে মাথা নত করবে না। আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী তারা তার অধিকার রক্ষা করতে থাকবে।’

ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে আইওনিয়ান সাগরে আঞ্চলিক জলসীমা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে গ্রিস।

এ নিয়ে আঙ্কার পক্ষ থেকে অ্যাথেন্সকে যুদ্ধের হুমকি দেয়া হয়েছে। আইওনিয়ার সাগরের জলসীমা ৬ নটিক্যাল মাইল থেকে বাড়িয়ে ১২ নটিক্যাল মাইল বৃদ্ধি করা হলে এটি যুদ্ধের কারণ হবে বলে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসগ্ললু মন্তব্য করেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর