আইএইএ’র প্রধানের তেহরান সফর: দূরত্ব সৃষ্টির মার্কিন প্রচেষ্টা ফের ব্যর্থ হল

প্রতিশ্রুতি ও আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র সঙ্গে সবসময়ই ইরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রয়েছে। এ সহযোগিতা সত্বেও গত বেশ ক’বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এ সংস্থাকে ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। এর মাধ্যমে আইএইএ’র গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

তেহরান সফরকারী আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির বক্তব্যের মাধ্যমে বেশ কিছু সন্দেহের অবসান ঘটেছে। তেহরানে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গেলে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

গ্রোসির সঙ্গে ইরানের কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকে এ বিষয়ে আমরা তিনটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতে পারি। প্রথমত, গ্রোসির তেহরান সফর আইএইএর সঙ্গে ইরানের সহযোগিতার নয়া অধ্যায়ের সূচনা করবে যার ফলে এ সংস্থার সাথে তেহরানের সহযোগিতার মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত, দু’পক্ষই তেহরান বৈঠককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছে এবং আইএইএ স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে সমঝোতা হয়েছে। আর তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে, ইরান ও আইএইএ’র কার্যক্রমে আরো বেশি স্বচ্ছতা থাকা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কোনো কোনো দেশ আইএইএর ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সহযোগিতা ও স্বচ্ছতার পরিবেশকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

আইএইএ’র মহাপরিচালক বলেছেন, আইএইএ’র ওপর কারো প্রভাব নেই, তবে চাপ আছে। রাজনৈতিক চাপের কাছে তারা নতিস্বীকার করবে না বলেও জানান তিনি। গ্রোসি বলেন, আইএইএ-কে অপব্যবহার করে কাউকে স্বার্থ হাসিলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তেহরান সফরকারী আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তেহরানে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাক্ষাত ছিল গঠনমূলক। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে আইএইএ সবসময়ই ইরান ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে পারেনি।

সম্ভবত এ কারণেই এ সংস্থার মহাপরিচালক তেহরানে সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি দায়িত্ব লাভের পর থেকেই কোনো কোনো দেশের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, তার ওপর চাপ আছে কিন্তু তিনি কাউকে এ সংস্থাকে অপব্যবহার করার সুযোগ দেবেন না।

যাইহোক, আইএইএর প্রধানের প্রথম ইরান সফর ও তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় উত্তেজনা সৃষ্টির মার্কিন প্রচেষ্টা ফের ব্যর্থ হতে চলেছে এবং আইএইএ ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতার নয়া অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দু’পক্ষই আশা করছে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিরাজমান সন্দেহ দূর হবে।