অ্যাবেকে মহানবন্ধু বললেন বিশ্বনেতারা

শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন জাপানের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শিনজো অ্যাবে।

আগামী মাসে ৬৬ বছরে পা দেবেন জাপানের প্রভাবশালী এ রাজনীতিবিদ। কিশোরকাল থেকেই আলসারেটিভ কোলাইটিসে ভুগছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের চাপে সেই অসুস্থতা আরো বাড়ছিল। তাই পদত্যাগেরই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন অ্যাবে।

অ্যাবের আকস্মিক পদত্যাগের বিস্মিত হয়েছেন বিশ্বনেতারাও। নিচে তাদের প্রতিক্রিয়া তোলে ধরা হলো:

 

যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবেকে, আমার মহানবন্ধুকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে চাই। তার শারীরিক অসুস্থ এবং পদত্যাগ আমার জন্য খুব কষ্টের। তিনি তার দেশকে অনেক বেশি ভালোবাসেন।

সদ্য পদত্যাগী জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

চীন

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন এবং জাপানের সম্পর্ক সঠিক পথে ফিরেছে। আমরা নতুন কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের সহযোগিতাকে আমরা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি তার দ্রুত আরোগ্য কামানা করছি।

যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিনজো অ্যাবে নিজের দেশের এবং বিশ্বের জন্য অনেক কিছু অর্জন করেছেন। তারা শাসনামলে সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্যে যুক্তরাজ্য-জাপান সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেবা দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার সুস্বাস্থ্য প্রত্যাশা করি।

জার্মানি

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেরা মারকেল বলেছেন, তার পদত্যাগে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি তার সর্বাঙ্গিক মঙ্গল কামান করছি। একসঙ্গে আমরা অনেক চমৎকার কাজ করিছি।

রাশিয়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাবের পদত্যাগ দু:খজনক। অ্যাবে এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্ব রয়েছে।

তাইওয়ান

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট তাসি ইনং ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যাবে সবসময়ই তাইওয়ানের বন্ধু ছিলেন। তাইওয়ানের জনগণের প্রতি তিনি ছিলেন খুবই ইতিবাচক। তার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাইওয়ান স্মরণ রাখবে। আমরা অ্যাবের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যাবের মহান সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে। কঠোর পরিশ্রম, আবেগ এবং সবার প্রতি যত্নবান হয়ে কীভাবে লক্ষ্য অর্জন করা যায় তিনি সে উদারণ স্থাপন করেছেন।

জাপান এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে অনেক বিষয়ে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জাপানের গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণসমর্থন দেশটিকে নিউজিল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে আমাদের যৌথ স্বার্থ অনেক বিষয় রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের মুখপাত্র ক্যাং মিন সোয়েক বলেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যাবের আকস্মিক সিদ্ধান্তে আমরা বিস্মিত। জাপানের সবচেয় দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন রয়েছে তার। জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

আমরা প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।