অস্থিরতার কারণে আফগানিস্তানে ইরানের রপ্তানি ৮৫% কমেছে

ইরান-আফগানিস্তান জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্সের প্রধান হোসেন সালিমি বলেছেন,ইরানের চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রিজ, মাইনস অ্যান্ড এগ্রিকালচার (আইসিসিআইএমএ)-এর পোর্টাল গত শুক্রবার জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ইরান থেকে দেশটিতে রপ্তানি ৮৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।–তেহরান টাইমস

হোসেন সালিমি বলেন, আফগানিস্তানে সংঘাত বাড়ার সাথে সাথে এই দেশে ইরানি পণ্য বহনকারী ট্রাকের সংখ্যা প্রতিদিন ১০০ থেকে কমে দিনে দুই বা তিন ট্রাক হয়ে গেছে। সালিমির মতে, গত দুই সপ্তাহে আফগানিস্তানে ইরানের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশ ছিল।

তিনি বলেন, যখন কোনো দেশে অশান্তি বা সংঘাত দেখা দেয়, তখন প্রথম যে ক্ষেত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা হল সে দেশের অর্থনীতি এবং বাণিজ্য। তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, এই মুহূর্তে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তা অনুমান করা সহজ নয়। ইরানি ব্যবসায়ীদের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক হিসাব এখনও আমাদের কাছে নেই। আমাদের দেখতে হবে, এই পরিস্থিতি কতদিন থাকবে।

তালেবান যদি শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং শান্তি পুনরুদ্ধার করা হয়, তাহলে ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কি একই রকম চলবে? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই সে দেশের চাহিদা দূর হবে না। যে কোনো গোষ্ঠী যে আফগানিস্তানের ক্ষমতা অর্জন করে, সে দেশের এখনও খাদ্য ও নির্মাণ সামগ্রীর প্রয়োজন হবে এবং তাই (তাদের চাহিদা পূরণের জন্য)তাদের সেরা বিকল্প হবে ইরান।

সালিমি বলেন, যদি এই পরিস্থিতি আরও এক মাস চলতে থাকে, তাহলে আমরা এই বছর আফগানিস্তানে আমাদের স্বাভাবিক রপ্তানির পরিমাণ ৫০ শতাংশেও পৌঁছতে পারব না। কর্মকর্তার মতে, ইরান চলতি বছরে (২১ মার্চ থেকে শুরু) আফগানিস্তানে ২.৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।