অলিম্পিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফুঁসছে জাপানের জনগণ

আর মাত্র সাত দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে অলিম্পিক গেমস। কিন্তু অলিম্পিক শুরু হওয়ার আগে ক্ষোভে ফুঁসছে জাপানের সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন অবস্থার এতটাই অবনতি হচ্ছে যে জাপানে অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, যে দেশের অগণিত মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছে, যে দেশের একাধিক মানুষ এই ভাইরাসের দাপটে এখনো নিয়মিত আক্রান্ত হচ্ছে, সেখানে কিভাবে অলিম্পিক আয়োজন করা হচ্ছে?

এবারের অলিম্পিকে ১৫ হাজার ৪০০ জন অ্যাথলেট ছাড়া প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত আছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। অলিম্পিক কমিটির প্রধান টমাস বাখের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদ করার জন্য হিরোশিমার শান্তি স্মৃতিসৌধের জায়গাকে বেছে নিয়েছিল সাধারণ মানুষ। পুলিশের মার উপেক্ষা করেও তারা স্লোগান তোলে- ‘বাখ তুমি দেশে ফিরে যাও’, ‘তোমাকে স্বাগত জানাতে পারলাম না’, ‘অলিম্পিক বাতিল করো।’ নাগাসাকিতে অলিম্পিক কর্মকর্তারা গেলে সেখানেও একই পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানানো হয়।

জাপানের সাধারণ মানুষদের ক্ষোভের অবশ্য সংগত কারণও আছে। অলিম্পিকে অংশ নিতে যাওয়া কয়েকটি দেশের মানুষ ইতিমধ্যেই কভিডে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে নাইজেরিয়া অন্যতম। টোকিও আসার পরেই সেই দলের এক কর্মকর্তা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। অস্ট্রেলিয়া টেনিস দলের অন্যতম সদস্য ও বিশ্বের ১৫ নম্বর বাছাই অ্যালেক্স ডি মিনাউর দেশ ছাড়ার আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

আমেরিকার বাস্কেটবল খেলোয়াড় ব্র্যাডলে বিলের এবার অলিম্পিক খেলার স্বপ্ন জলে গেছে। তিনিও জাপানে আসার আগে এই ভাইরাসের কবলে পড়েন। এই খবরগুলো শোনার পর থেকে আরো বিরক্তি প্রকাশ করছে সেই জাপানের সাধারণ মানুষ। দেশটিতে যখন অলিম্পিকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে, তখন অ্যাথলেটদের উদ্দেশে বাখ বলেছেন, ‘অলিম্পিকের আসল অর্থ হলো সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রাখা। তাই টুর্নামেন্ট চলাকালীন কেউ কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা করতে পারবেন না।