‘অন্যায় সমর্থন না করায় আমাকে দুইবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল জয়নাল হাজারী’

‘ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ‘সোহেল্লা’ এবং সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র ‘খোকন্না’ জানতে চাই আজকে ফেনী শহরের কোথায় তোরা, এখানে যারা আছে তারাই তোদেরকে টুকরো টুকরো করবে, বঙ্গবন্ধুকে ছাড়াই আমরা দেশ স্বাধীন করেছি।’

দীর্ঘ এক দশক পর ঈদুল আযহার দিনে ফেনীর মাষ্টার পাড়াস্থ নিজ বাড়িতে এসে এক সমাবেশে ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল হাজারীর বিতর্কিত এ বক্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। তার এ বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে জয়নাল হাজারীর বক্তব্যকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ উল্লেখ করে সোমবার বিকেলে জয়নাল হাজারীর হুমকি-ধমকির প্রতিবাদ জানিয়েছেন, ফেনী জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা ও বর্তমান ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।

দৈনিক নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে দ্বিতীয় মেয়াদে থাকা ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী বলেছেন, ‘জয়নাল হাজারীর অন্যায় অবিচারকে সমর্থন না করা এবং ছাত্ররাজনীতি করার সময় তার সাথে আপোস না করায় আমাকে জয়নাল হাজারী দু-দফায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

তার সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কারণে ফেনীবাসীর গায়ে সন্ত্রাসের তকমা লেগেছিল, তা পুরোপুরি এখনো পরিষ্কার হয়নি। দেশবাসী গড়ফাদার বলতে সন্ত্রাসবাদকে বুঝায়, আর তার জন্মদাতা জয়নাল হাজারী নিজেই, বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এবং ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি ফেনীকে শান্তির জনপদে রুপান্তর করেছেন ‘

তিনি বলেন, শিক্ষা-দীক্ষায়, উন্নয়ন ও সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ফেনী। তার সময়ে অপরাজনীতির স্বীকার হয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছিল।

লাঞ্ছিত হয়েছে প্রবীণ সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। তাকে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করেছেন। দীর্ঘ এক দশক পর ফেনীর মাটিতে পা রেখেই তিনি আগের মতো শান্ত ফেনীকে অশান্ত ফেনী করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সোহেল বলেন, জয়নাল হাজারী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেও বঙ্গবন্ধুকে ছাড়াই দেশ স্বাধীন করার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় নেতাকর্মী ও দেশবাসী ক্ষুদ্ধ বলেও জানিয়েছেন তিনি ‘ ফেনীকে অশান্ত করার তার দিবা-স্বপ্ন কখনো সফল হবে না বলেও জানিয়েছেন ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ।

প্রসঙ্গত, ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি জয়নাল হাজারী ২০০১ সালে তৎকালীন ফেনী জেলা প্রশাসক এএফএম সোলেমান চৌধুরীর আমলে প্রশাসনের অভিযানের মুখে তিনি ফেনী ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ দেশে এসে আদালতে আত্মসমর্পন করেন। পরে জামিন নিয়ে শহরের মাষ্টার পাড়ার শৈলকুঠিরে বসবার শুরু করেন হাজারী। দলীয় প্রতিপক্ষের তোপের মুখে একই বছর ফেনী ছেড়ে ঢাকায় বসবাস করেন জয়নাল হাজারী।