অনিবন্ধিত হাসপাতাল বন্ধ এ মাসেই

আমাগী ২৩ আগস্টের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বা নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যারা নবায়নে ব্যর্থ হবে তাদের হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারও এর আওতায় পড়বে।

বর্তমানে নিবন্ধন ছাড়াই কার্যক্রম চলিয়ে যাচ্ছে ১১ হাজারের বেশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক। যত বড় হাসপাতালই হোক ২৩ আগস্টের পর কোনো ছাড়া পাবে না।

এছাড়া এখন থেকে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অভিযান পরিচালনা করবে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নবগঠিত টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, টাস্কফোর্সের এই সভায় প্রধান এজেন্ডাই ছিল বেসরকারি হাসপাতাল সংক্রান্ত চলমান সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কি হতে পারে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সভায় সিদ্ধান্ত হয় বেসরকারি হাসপাতালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজীকরণ ও গতিশীল করতে হবে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা যাবে না এমন একটি প্রজ্ঞাপন নিয়ে সব মহলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। ওই বিষয়ে বলা হয়, মূলত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

এক্ষেত্রে অভিযান আগের চেয়েও গতিশীল হবে। কারণ যেসব সদস্য নিয়ে টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে তারা যে কোনো সময় যে কোনো হাসপাতাল পরিদর্শনে যেতে পারবেন। সারা দেশে ১৫ হাজারেরও বেশি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। কিন্তু মাত্র ৭ জন লোকবল নিয়ে চলছে অধিদফতরের হাসপাতাল শাখা। এই বিষয়টিও টাস্কফোর্সের আলোচনায় উঠে আসে। এক্ষেত্রে আরও লোকবল পদায়ন করে এই শাখাকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (জনস্বাস্থ্য-১) ডা. শিব্বির আহমেদ ওসমানী কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই।

অধিদফতরের হাসপাতাল শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নিবন্ধন ফি এবং নিবন্ধন নবায়ন ফি ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে সর্বনিু ৫০ হাজার ও সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ৪ হাজার ২০০ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করলেও বাকি ১১ হাজারের বেশি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক নিবন্ধন ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রতি বছর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স নবায়নের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিস্তারিত বিবরণ, সিটি কর্পোরেশনের ছাড়পত্র, কর সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য নথি প্রয়োজন। নিবন্ধন নবায়ন করতে এসব হাসপাতালকে নিয়মিত নোটিশ দেয়ার পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারে না বলে লাইসেন্স নবায়ন করতে আসে না অনেক বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে জনবলের ঘাটতিও একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্রটি জানায়, ঢাকার প্রায় পাঁচ হাজার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের বিষয়টি দেখার জন্য মাত্র তিনজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

গত ২৬ জুলাই কোভিড-১৯ বিষয়ক শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ও আক্রান্ত রোগীদের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদান নিশ্চিতকরণে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ পর্যন্ত জারিকৃত পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন, আদেশ, নির্দেশনা ও যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন অগ্রগতি তদারকি করতে একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (জনস্বাস্থ্য) আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন- স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন), স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন), অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন, অর্থ বিভাগ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন, জননিরাপত্তা বিভাগ), স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক, রোগতত্ত্বব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (জনস্বাস্থ্য-১)।

শনিবার এই টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভা হয়। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন টাস্কফোর্সের সভাপতি মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা। উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব ডা. শিব্বির আহমেদ ওসমানী, অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরযাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা প্রমুখ। এর আগে মন্ত্রণালয়ের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৩ তারিখ তাদের তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি জানা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালটির সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়টি সম্প্রতি জনসম্মুখে আসে। এরপর থেকেই লাইসেন্স নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।