অদূরদর্শী নীতি ভারতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি

১৯৭৪ সালের শুরুর দিকে আমি পাপুয়া নিউগিগির ‘ইউনিভর্সিটি অব টেকনলজি’তে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদান করি। আমেরিকা থেকে পিএইচডি করার পর এটা ছিল আমার প্রথম কর্মস্থল। যাওয়ার আগে শুনি সেখানে এখনো আদিম মানুষের বাস।

তারা নাকি মানুষ শিকার করে তার খুলি দিয়ে ‘ট্রফি’ বানায়। ওই সময়টিতে পাকিস্তান ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম, পাকিস্তান প্লানিং কমিশন থেকে আমার চাকরিচ্যুতি, রাষ্ট্রহীন অবস্থায় পতিত হওয়াসহ নানা ঝড়ঝাপটার কারণে ‘আল্লাহ যা কপালে রেখেছে’ ভেবে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পোর্ট মর্সবি গিয়ে পৌঁছি। তখনো দ্বীপপুঞ্জটি স্বাধীন হয়নি, এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার একটি অংশ।

আয়তনে বাংলাদেশের ছয় গুণ বড়। তখন জনসংখ্যা ছিল ৩০ লাখের মতো (২০১৮ সালের জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী ৮৬ লাখ)। ১৯৭৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দেশটির প্রথম স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে যোগদানের সৌভাগ্য হয়েছিল আমার।

সেখানে আমার দিনগুলো বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে কেটেছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করার কয়েক মাস পর ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ঈদ এসে হাজির হয়। ফলে আমি সেখানে ঈদ উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেই। বলতে কি সেটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদ উৎসব। আমার ডিপার্টমেন্টের ডিন ড. স্যান্ডোবার ছিলেন শৌখিন নাবিক। মুসলিম সংস্কৃতির সাথে তার জানাশোনা ছিল। ঈদ উৎসব আয়োজনে তার উৎসাহ ছিল সবচেয়ে বেশি।

তবে পাপুয়া নিউগিনিবাসীর কাছে ঈদ ছিল সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। ফলে ঈদ কাকে বলে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে দাওয়াত কার্ড বানিয়ে আমরা বিতরণ করি। সেখানে যারা হিন্দু ছিলেন তারাও মুসলিম সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতেন। খাবারের আয়োজন তারাই করেন। ফলে উৎসব বেশ জমজমাট হয়েছিল।

আমরা কয়েকজন মুসলমান ঈদের নামাজ পড়ি, আমার বাড়িতেই। ইউনিভার্সিটিতে ফিজি থেকে ছাত্ররা পড়তে আসত। তাদের মধ্যে দু’জন মুসলিম ছাত্র আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পোর্ট মর্সবি ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের মধ্যে আমার এক আত্মীয় ছিলেন, ড. গনি। তিনি আসেন। আমার এক পাকিস্তানি বন্ধু আবেদ সেখানে ছিল, সেও আসে। আমার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সব মিলিয়ে তখন পাপুয়া নিউগিনিতে আমরা মুসলমান ছিলাম সংখ্যায় আটজন। আর এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ বিশ্বের দেশগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যার যে হিসাব দিয়েছে তাতে পাপুয়া নিউগিনির মুসলিম জনসংখ্যা এখন ২,০০০ (ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ)।

১৯৭৪ থেকে ২০১৯, এই ৪৫ বছরে পাপুয়া নিউগিনিতে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়েছে ২৫০ গুণ। শুধু তাই নয়, একই হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ায় দুই কোটি মুসলমান আছে, যারা সংখ্যায় সিরিয়া বা মালয়েশিয়ার জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। ফিলিপাইনে ৮০ লাখ মুসলমান রয়েছে; ক্যামেরুন বা লিবিয়ার জনসংখ্যাও যা নয়। ঘানার চেয়ে বেশি মুসলমান বাস করে ফ্রান্সে, ৫৭ লাখ।

আরব আমিরাতের জনসংখ্যার চেয়ে জার্মানিতে বেশি মুসলমান, ৪৭ লাখ। ব্রিটেনে লেবাননের চেয়ে বেশি মুসলমান রয়েছে, ৪১ লাখ। আর যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ লাখ মুসলমানের বাস, এর চেয়ে কম ওমানের জনসংখ্যা। আর, ২০ কোটির বেশি মুসলমান নিয়ে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকারী রাষ্ট্র। পিউ রিসার্চ বলছে, আগামী ৬০ বছরে মুসলমানরা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্প্রদায়।

বিশেষ করে খ্রিষ্টান বিশ্বে যেভাবে জন্ম হার কমছে তাতে এই শতাব্দীর শেষে জাপান, স্পেনসহ ২৩টি দেশের জনসংখ্যা একেবারে অর্ধেক হয়ে যাবে (২০ জুলাই ২০২০, বিবিসি বাংলা)। পাশাপাশি এসব দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়বে। চীন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হলেও মাত্র চার বছর পর তাদের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ১৪০ কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। এরপর কমতে শুরু করবে। শতাব্দীর শেষে চীনের জনসংখ্যা নেমে আসবে ৭৩ কোটি ২০ লাখে। ব্রিটেনসহ কিছু দেশ তাদের জনসংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে অভিবাসনকে ব্যবহার করেছে। আসলে খ্রিষ্টান সভ্যতা পতনের দিকে যাচ্ছে।

বিশ্বের জনসংখ্যা সম্পর্কিত এই হিসাবের অবতারণা মূলত সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের প্রতিবেশী ভারতে ঘটে চলা ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে। ভূগোল থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশ, গাত্রবর্ণ থেকে জাতিগোষ্ঠী, ভাষা থেকে ধর্ম পর্যন্ত বিপুল বৈচিত্র্যের অধিকারী দেশটিতে যে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে তা সাম্প্রতিক অতীতে আর দেখা যায়নি। সেখানে একটি ভীতিকর আর্থ-সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ২০ কোটি মানুষের (মুসলমান) মনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, ভারতে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন তারা ঘৃণার রাজনীতি চর্চা করছেন। ঘৃণার এই রাজনীতি সস্তা স্লোগান হতে পারে। এটা করে কিছু দূর হাঁটা যাবে, কিন্তু বেশি দূর যাওয়া যাবে না। আমার মনে হয়, মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যৎটি মোদি বুঝতে পারছেন না। তিনি যে কাজগুলো করছেন তা লোক দেখানো।

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যদা বাতিল বা বাবরি মসজিদ ভেঙে সেই জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের মধ্যে চিন্তার কোনো গভীরতা নেই। মোদি যদি ইতিহাস জানতেন, ভবিষ্যৎ পড়তে পারতেন তাহলে এ কাজগুলো করতেন না। সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাস তার জানা নেই। তিনি যেসব কাজ করছেন সেগুলো টেকসই নয়। ভবিষ্যতের সুনামিতে সেগুলো খড়কুটার মতো ভেসে যাবে।

পিউ রিসার্চ বলছে, ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে আগামীতে মুসলিম জনসংখ্যার সুনামি আসছে। এই সুনামি কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না। মুসলিম বিশ্বে তারুণের যে বাঁধভাঙা জোয়ার আসছে তা কূপম-ুকতার প্রাচীর ভেঙে তছনছ করে দেবে। চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বে মুসলমানরা হবে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। খ্রিষ্টানরা তখন দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে যাবে। তখন ভারতেও মুসলমানরা হবে ভারসাম্য সৃষ্টিকারী শক্তি। এটা আমার ভবিষ্যদ্বাণী।

কারণ ৮০০ বছরের মুসলিম শাসনামলে ভারতে যা ঘটেনি আগামী ১০০ বছরে তা ঘটবে। আমি ব্রাহ্মণদের অত্যাচার দেখেছি। তারা সবখানে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। হিন্দুত্ববাদ আসলে ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যবাদ টিকিয়ে রাখার কৌশল। আমি বিশ্বের যেখানে যত বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি, আমার সাথে যত হিন্দু অধ্যাপকের পরিচয় হয়েছে, আমার পিএইচডি কমিটিতেও একজন হিন্দু প্রফেসর ছিলেন, তাদের সবাই ছিলেন ব্রাহ্মণ। অন্যকোনো বর্ণের কাউকে আমি পাইনি। এটা শতাব্দীকাল ধরে চলে আসা বৈষম্য। আমি জ্যোতির্বিদ নই। একজন সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে আমি সমাজের বৈপরীত্যগুলো অবলোকন ও বোঝার চেষ্টা করি মাত্র। হিন্দু ধর্মকে সনাতন ধর্ম বলা হয়।

কারণ এর সূচনা হয়েছিল পাঁচ হাজার বছর আগে। তখন খ্রিষ্টান, মুসলমান বা বৌদ্ধ ধর্মের জন্ম হয়নি। হিন্দু ধর্মের স্বাভাবিক বিস্তার ঘটলে এত দিনে সারা দুনিয়ার সব মানুষ হিন্দু হয়ে যেত। আজ ভারতে মুসলিম নিপীড়নে ক্ষমতাসীনদের তরফ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মদদ দেয়া হয়। অথচ এই দেশটিকে বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে আসতে মুসলিমদের অবদান অনেক বেশি। মুসলিম সম্রাটরা ভারত জয় করেছিলেন, শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মতো লুটপাট করে সম্পদ নিজের দেশে নিয়ে যাননি।

তারা এখানে থেকেছেন, এই ভূমিকে নিজের দেশে পরিণত করেছিলেন। এখানকার সংস্কৃতিকে আলিঙ্গন করেছিলেন। আজো ভারতবাসী তাজমহল, লালকেল্লার মতো যেসব ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করে সেগুলো মুসলিম ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। তরবারির জোরে ইসলামের বিস্তার হলে ভারতবর্ষে আজ হিন্দুদের অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। কিংবা সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি মানসিংহ হওয়ার কথা নয়। মানবমূল্যবোধই ভারতে ইসলামের প্রসার ঘটিয়েছে।

মসজিদে নামাজের কাতারে দাঁড়ানোর সময় কে আমির আর কে ফকির সেই বিবেচনা করা হয় না। তিনিই ইমামতি করেন যিনি মুসল্লিদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ও যোগ্য। সেখানে কারো গায়ের রঙ কিংবা বংশপরিচয় বিবেচনার বিষয় নয়। এই মূল্যবোধ দেখে ভারতীয় হিন্দু সমাজের বর্ণবাদী প্রথার কশাঘাতে পিষ্ট লোকজন দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এই মূল্যবোধের বৈশ্বিক আবেদনও রয়েছে।

আমি মনে করি, ভারতে মুসলমানরা যখন ভারসাম্য সৃষ্টিকারী শক্তি হবে তখন সেখানে গণধর্মান্তরের ঘটনা ঘটবে। তখন উচ্চবর্ণের আধিপত্যের অবসান ঘটবে, যা ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। শুধু ভারত কেন, জার্মানি, ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে যে মুসলিম জনগোষ্ঠী রয়েছে তারাই আগামী শতকে দেশগুলোর প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি। তাই আজ লন্ডনসহ অনেক শহরের মেয়র মুসলমান। আমেরিকাতেও মুসলমানদের কণ্ঠ ক্রমেই উচ্চকিত হচ্ছে। ট্রাম্প যাই বলুন না কেন তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আল-কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ রাখা যায়নি। ইসলাম যে আমেরিকাতেও প্রভাব বিস্তার করেছে এটা তারই স্বীকৃতি।

পিউ রিসার্চ বলছে, ২০৫৫-৬০ মেয়াদেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই ধর্মীয় গ্রুপ মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে শিশুজন্মের পার্থক্য হবে ৬০ লাখ। এই মেয়াদে মুসলিম ও খ্রিষ্টান শিশুর জন্ম হবে যথাক্রমে ২৩ কোটি ২০ লাখ ও ২২ কোটি ৬০ লাখ। এই সময়ে বিশ্বে জন্ম নেয়া ১০টি শিশুর মধ্যে মুসলিম ধর্মের হবে ৩৬%, আর খ্রিষ্টান ৩৫%। এর কারণ মূলত পশ্চিমা বিশ্বে জন্মহার কমে যাওয়া। কোনো দেশের জন্মহার ২.১-এর নিচে নেমে গেলে সেখানকার জনসংখ্যা কমতে থাকে।

২০৬০ সালের পর মুসলিম বিশ্বে তারুণের জোয়ার সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য তরুণ জনশক্তি বেশি প্রয়োজন। জাপান থেকে শুরু করে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে শ্রমশক্তি দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। তরুণ মুসলিমরা এসব দেশে অভিবাসী হতে পারে। পশ্চিমা বিশ্বে জনসংখ্যার পড়তির কারণ হলো সেখানকার মেয়েরা আর সন্তান ধারণে আগ্রহী নন।

তারা সন্তান লালনের পেছনে সময় ব্যয় না করে আনন্দ-ফুর্তিতে কাটানোকে বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু মুসলমানদের মূল্যবোধ ভিন্ন। পশ্চিমা মূল্যবোধ যেখানে জন্ম নিয়ন্ত্রণকে উৎসাহিত করে সেখানে ইসলামে অধিক জনসংখ্যাকে ‘নেয়ামত’ বলা হয়েছে। আমাদের মহানবী সা: ‘অধিক সন্তানপ্রসবা নারীকে বিয়ে করা’র তাগিদ দিয়েছেন।

আমাদের মায়েরা যেভাবে সন্তানদের লালন করেন তা পশ্চিমা সমাজে বিরল। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার মা অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন কিছুক্ষণ পরপর আমার গায়ে কাঁথা তুলে দেয়ার জন্য। আমার যেন ঠাণ্ডা না লাগে। আমার বিশ্বাস এ দেশে প্রায় সবারই ছেলেবেলায় এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।

আমরা সভ্যতার পথে যতই অগ্রসর হচ্ছি মানবতাকে ততই ভুলে যাচ্ছি। আজ সভ্যতা এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, হানাহানিই হয়ে পড়েছে আমাদের ধ্যান-জ্ঞান। বলদর্পী আচরণ করার মধ্যেই যেন সব সাফল্য। আর ভারতের অদূরদর্শী নেতাদের ভুল এখানেই। আজকে সেখানে মুসলমানকে ধরা হচ্ছে, আগামীতে হিন্দুকেই ধরা হবে, বর্ণপ্রথার কারণে।

ভারত ধ্বংস হবে কারো সাথে মারামারি করে নয়, বরং মানবিকতার অভাবে, মানবতার কল্যাণের পথে অগ্রসর না হলে, ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করে নিম্নবর্ণ ও সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করার চেষ্টা হলে, হিংসাত্মক ও বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতির কারণে, কিছু নেতার সাময়িক রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টার কারণে।

ইসলাম যে সমতা, সাম্য, মানবিকতার কথা বলে সেগুলো কোনো ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। কেউ যদি ইসলাম শব্দটি বাদও দেন তবু এসব মূল্যবোধের সুফল কমবে না। আবার শাশ্বত মানবিক মূল্যবোধগুলো সব ধর্মেই সমান। কোনো ধর্ম মিথ্যা কথা বলতে, চুরি করতে, দুর্নীতি করতে বলেনি। তাই হিন্দুমাত্রই অসহনশীল নয়। সেই উদাহরণও সম্প্রতি আমরা দেখেছি।

ভারত সরকার সে দেশে অবস্থানকালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে মুসলমানদের জন্য একরকম আর অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য আরেকরকম জরিমানার বিধান করেছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন সে দেশেরই এক হিন্দু নাগরিক। তিনি তিনটি চিঠি লিখেন প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তার প্রতিবাদে কাজ হয়। এখন আলোচ্য তিনটি দেশের সব ধর্মের নাগরিকদের জন্য একই জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

তবে আসন্ন পরিবর্তনকে কাজে লাগাতে মুসলমানদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। হিংসা নয়, মানুষকে ভালোবাসতে হবে। তবেই বিশ্বে শান্তি আসবে, সমৃদ্ধি আসবে।